গাব ফুলের ঘ্রানে তিনি মোহিত হলেন। মনে হল যেন ছোটবেলায় ফিরে গেলেন । বাড়ির পাশে খাল আর খালের উপরে একটি গাব গাছ। গাব ফুলের সৌন্দর্য আর ঘ্রাণ ছোট্ট তুলিকে বেশ আনন্দ দিত।
তুলির ঘুম ভেঙে গেল। হঠাৎ বাইরে বোমার বিস্ফোরণ। ঘুমন্ত ছেলে আবির কে কাছে টেন স্বপ্ন ছেড়ে বাস্তবতার মুখোমুখি হলেন। তিনি স্বপন বাংলাদেশে থাকলেও বর্তমানে আছেন জাপানে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো পৃথিবীতে।
তুলির স্বামী ফারহান টোকিওতে কাজ করে বেশ অনেক বছর আইটি কোম্পানিতে। যুদ্ধের কারনে একমাস ধরে ঘরে এক প্রকার বন্দি হয়ে আছে তারা। যা ছিল বাজার সদাই সবি শেষ।
প্রয়োজনীয় কিছু চাল ডাল সংগ্রহের জন্য ফারহান বের হয়েছে সন্ধ্যায় আর এখন মধ্য রাত।
অপেক্ষা করতে করতে পেটে ক্ষুধা নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল তুলি আর আবির। বোমার আঘাতে ছাদের ক্ষয়ক্ষতি হলেও বোমার আঘাতে তাদের এখনো কোন আঘাত প্রাপ্তি হয়নি ।
আশেপাশে গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। আমেরিকার বিপক্ষে যুদ্ধ শুরুর পর জাপান অবস্থান নিয়েছে।
বাংলাদেশ যেতে চেয়েছিল তুলি। কিন্তু ততদিনে দেরী হয়ে গেছে। আবির বলেছিল যেখানে মৃত্যু লেখা আছে সেখানেই মরতে হবে পালিয়ে কি নিয়তির দায় এড়ানো যায়।
অবির আর ফিরেনি। তুলির অপেক্ষার শেষ হয় না । প্রথম দিকে দেশের সাথে যোগাযোগ থাকলেও যুদ্ধের প্রভাবে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
পালিয়ে লুকিয়ে বেঁচে থাকতে হচ্ছে। বোমার আঘাতে বাড়িটাও বিধ্বস্ত। ভাগ্য ভালো সেদিন তারা খাবারের সন্ধানে একটু দূরের বাজারে গিয়েছিল।
ধ্বংসস্তূপের এক কোঠরে ছেলে আর নিজের জন্য থাকার জায়গা বানিয়ে নিয়েছে তুলি।
দিন দিন বাইরে বের হওয়া বিপদজনক হয়ে উঠেছে। জাপানিরা অন্য জাতিদের উপর বিশ্বাস হারিয়েছে। ছেলেকে রেখে একদিন তুলি বাহিরে গিয়েছে। তার দেরি হল ফিরতে, ফিরে দেখে ছেলে নেই।
হঠাৎ সমস্ত পৃথিবীটা যেন কেঁপে উঠল। খুঁজতে খুঁজতে বাড়ির থেকে দূরে লেকের পাশে ১০-১২টি লাশের মধ্য নিজের রক্তাক্ত ছেলের লাশ পেয়ে বোবা কান্না ভেঙে পড়ে।
শত্রুর তথ্য পাওয়ার জন্য তার ছেলেকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে।
তুলি এখন কি করবে? তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের বলি হওয়ার জন্য মৃত্যুর অপেক্ষা করে আর অপেক্ষা করে প্রতিশোধের।
আপনার ভালো লাগা ও মন্দ লাগা জানিয়ে লেখককে অনুপ্রানিত করুন
মেহেদী মারুফ
বাহ!! বেশ একটা খন্ড চিত্র পড়লাম মনে হলো। খন্ডচিত্র বলা যায় কিনা আমার ধারণা নেই, তবে যুদ্ধের পরিস্থিতি হিসেবে ঠিকঠাক। আর বিশেষ করে যখন তুলি ফিরে এসে দেখলো "ছেলে নেই"! এই ব্যাপারটা আমার বুকের ভেতরে ভেঙে দিয়েছে। শুভ কামনা!!
লেখার সাথে বিষয়ের সামঞ্জস্যতা
ব্যাখ্যায় লেখকের বক্তব্য
স্বামী ও সন্তান হারিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে এক নারীর মৃত্যুর অপেক্ষা।
২৪ আগষ্ট - ২০২০
গল্প/কবিতা:
১২৭ টি
বিজ্ঞপ্তি
এই লেখাটি গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষের আংশিক অথবা কোন সম্পাদনা ছাড়াই প্রকাশিত এবং গল্পকবিতা কর্তৃপক্ষ এই লেখার বিষয়বস্তু, মন্তব্য অথবা পরিণতির ব্যাপারে দায়ী থাকবে না। লেখকই সব দায়ভার বহন করতে বাধ্য থাকবে।